পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছে, তাদের হৃদয়ে ভয়ংকর জ্বালা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে শহিদ মিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা অসম একটি চুক্তি করেছিলেন আদানি গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে ভারতে যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। অনেক বকেয়া রেখে গেছেন শেখ হাসিনা। সেই বকেয়া কমানোর জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করছে, অনেক পরিশোধ করেছে- আরও কিছু বাকি আছে।
প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার এই তিন মাসের মধ্যে তারা বিভিন্নভাবে জমা দিয়েছে, বকেয়া পরিশোধ করেছে। তারপরও উনারা সন্তুষ্ট নন। বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ দেয় সেই বিদ্যুতের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। হুমকি দিয়েছে যে টোটালি বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেবেন। কেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নেই এজন্য? এজন্যই কি আপনাদের এত রাগ, এত ক্ষোভ?
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আপনাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বন্ধুত্ব। আপনাদের সঙ্গে গণতন্ত্র হত্যাকারীদের সম্পর্ক। আপনাদের সঙ্গে তো বাংলার জনগণের সম্পর্ক নেই। আপনারা খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, হৃদয়ে ভয়ংকর জ্বালা, শেখ হাসিনা নাই তাই।
রিজভী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তা হচ্ছে শেখ হাসিনা ভার্সেস ভারত। বাংলাদেশ আর ভারত নয়। ভারতের পলিসি মেকারদের সঙ্গে এই সম্পর্ক। শেখ হাসিনার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। তাহলে কত গভীর এই সম্পর্ক, এখানে জনগণ কোনো বিষয় নয়।
তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যেমন স্বাধীনতা প্রিয়, বাংলার মানুষ যেমন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। ঠিক তেমনি তারা গণতন্ত্র প্রিয়। সুতরাং কর্তৃত্ববাদী, দুঃশাসন, একদলীয় দুঃশাসন এবং জনগণের উপর স্টিমরোলার চালিয়ে আপনারা কখনোই আপনাদের প্রতিভাকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।
রিজভী বলেন, যারা বাংলাদেশকে কব্জা করতে চায়, স্বাধীনতাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায় তাদেরকে বলে রাখা উচিত এই বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আবরার, মুগ্ধ ও আবু সাঈদদের যুগ যুগ ধরে জন্ম হয়েছে। এই বীরত্ব গাথা ইতিহাস হয়তো জানেন না দিল্লি। আপনারা হয়তো জানেন না পার্শ্ববর্তী দেশ- কত বীরের আত্মদানের মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশ। আর আপনারা আধিপত্যবাদী নীতির মধ্য দিয়ে এই দেশকে চালাবেন। আপনারা এই দেশের উপর প্রভুত্ব কায়েম করবেন,কখনই পারবেন না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেবা শানু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইথুন বাবু, যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।